| | | |
সংবাদ শিরোনামঃ
মুুক্তিযোদ্ধার জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ তাড়াশে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মিরপুরে মাটি পরীক্ষায় ডিজিটাল সেন্সর ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণ ভেড়ামারায় বিয়ে করতে এসে জরিমানা গুনতে হলো বর কে ভেড়ামারায় আলহেরা মডেল একাডেমী স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ ভেড়ামারার পদ্মায় পানির তোড়ে ভেসে গেলো কৃষক ভেড়ামারায় গনধর্ষন/ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে গেলো তরুনী ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২জন আসামি গ্রেফতার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা, দাদু আর একমাত্র ভাই সবাইকে হারিয়ে মহিমার চোখে কেবলই অন্ধকার/ আগুনে ছাই হয়ে গেল মহিমার সব স্বপ্ন
আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা কামারুল আরেফিনের পক্ষে একাট্রা/ কুষ্টিয়া-২আসনে ইনু নৌকা পেলেও ভাড়া খাটতে রাজি না আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা কামারুল আরেফিনের পক্ষে একাট্রা/ কুষ্টিয়া-২আসনে ইনু নৌকা পেলেও ভাড়া খাটতে রাজি না আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

শাহ্ জামাল:
কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে একাট্রা হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জোটের স্বার্থে এই আসনে বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইনুর পক্ষে ভোট করলেও এবার তাঁরা আর ‘ভাড়া খাটতে’ চান না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিনের অনড় অবস্থানের কারণে জাসদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কামারুল মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র থেকে এমপি প্রার্থী হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া-২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি আওয়ামী লীগ। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হতে পারে—এটি অনেকটা নিশ্চিত। এই আসনে কামারুল আরেফিন ছাড়াও ৯ জন প্রার্থী মাঠে আছেন।
শেষ পর্যন্ত কামারুল ভোটের মাঠে থাকলে নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোটের সমীকরণ বেশ জটিল হবে। ভোটাররা বলছেন, ভোটের মাঠে মূল খেলোয়াড় কামারুল নিজেই প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে নিয়ে জাসদের ইনু এখন বিপাকে। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে জাসদ নেতা-কর্মীদের মধ্যে। ভেড়ামারা উপজেলায় জাসদ কিছুটা সক্রিয় থাকলেও মিরপুরে ঝিমিয়ে পড়েছে।
আওয়ামী লীগ ও জাসদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত জাতীয় তিনটি নির্বাচনে কামারুল নৌকাকে জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা ইনুর পক্ষে কাজ করেছেন। এবার তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা বলছেন, তাঁরা আর জাসদের হয়ে ভাড়া খাটবেন না, নিজেদের প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন।
বিগত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নৌকা প্রতীকে জোট প্রার্থী হাসানুল হক ইনুর পক্ষে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা নেই। বরং শুরুর দিকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
এবার আর অন্যের জন্য ঘাম ঝরাতে রাজি নন আওয়ামী লীগ নেতা কামারুল আরেফিন। তিনি প্রতিদিন ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ শান্তি সমাবেশ করছেন। সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। এসব সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
এমনকি জাসদের মূল ঘাঁটি ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামেও কামারুল বেশ বড় শান্তি সমাবেশ করেছেন। দুটি উপজেলাতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কামারুলের নেতা-কর্মীরা। কামারুলকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারাও তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে জাসদ নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে! তাঁরা এখন কামারুলকে বাগে আনতে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন।
মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী বলেন, ‘কামারুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে নেতা-কর্মীদের মাঝে কিছুটা সংশয় কাজ করছে। বিষয়টির সমাধান না হলে কী হবে সেটা বলা মুশকিল। আমরাও বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, কীভাবে সমাধান করা হয়।’
এ নিয়ে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী কামারুল আরেফিন। তাঁর জন্য দলের নেতা-কর্মীরা এক হয়ে কাজ করবে। আমরা কারও পক্ষে আর ভাড়া খাটতে রাজি নই। আমাদের সংগঠন বাঁচাতে হলে নিজেদের এমপি প্রয়োজন।’
জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিন বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু যদি ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পান, তাহলে নৌকার নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল সক্রিয় থাকায় নেতা-কর্মীদের মাঝে অন্য রকম বার্তা যাচ্ছে।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিন তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমার ওপর কোনো চাপ নেই, বরং সকলে উৎসাহ দিচ্ছে। উনি (হাসানুল হক ইনু) জাতীয় নেতা, নৌকা প্রতীক পেলে উনি নির্বাচন করবেন, আমিও জনতার নেতা হয়ে মাঠে থাকব।’

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024